সুনামগঞ্জ , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যনগরের গুমাই নদে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন, ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন মে দিবসে সবেতনে ছুটি ও ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে মাঠ গোছাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা সোনালী চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন : বিলুপ্তির পথে ৬ গ্রাম ২৮ এপ্রিল থেকে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির ঝুঁকি আবহাওয়ার বিরূপ আচরণে হাওরের কৃষি : এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৭০০০ মে. টন ডিজেল সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় একটি সেতুর প্রতীক্ষায় কয়েক প্রজন্ম শ্রমিক সংকট ও জলাবদ্ধতায় বাড়ছে দুশ্চিন্তা আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ : সংকটে হাওরাঞ্চলের কৃষি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানি করা হয়নি : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বম্ভরপুরে মোটরসাইকেল চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার সিলেটের নতুন বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান শহরে অর্ধ কোটি টাকার স্বর্ণ ও ডলার চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ৫ এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই, সূচি প্রকাশ ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে ক্ষোভ দোয়ারাবাজারে যুবকের ওপর হামলা প্রতিবন্ধী কৃষকের জমির ধান কেটে নেওয়া ও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অপ্রয়োজনীয় স্থানে বজ্র নিরোধক দন্ড স্থাপন, কাজে আসেনি তালগাছ প্রকল্পও

​আমার ছেলেটার বুক গুলিতে ঝাঁজরা আছিল

  • আপলোড সময় : ২২-০৮-২০২৪ ০১:৫৮:২৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৮-২০২৪ ০১:৫৮:২৮ অপরাহ্ন
​আমার ছেলেটার বুক গুলিতে ঝাঁজরা আছিল
“লাশ দেইখ্যা তো আমি বেহুশ। অত গুলি কি-লা করল। ছেলেটার বুক গুলিতে ঝাঁজরা আছিল। আমার ছেলের বুকখান চোখও লাগি রইছে। আমরা অখন কিলা চলমু, আমারে ওষুধের টেখা দিব কেটায়।”

কথাগুলো বলেই ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করেন ষাটোর্ধ্ব আবুল কালাম (৬৪)। ছেলের কথা মনে হলেই নীরবে কাঁদেন তিনি। হতদরিদ্র আবুল কালাম ছেলেকে হারিয়ে এখন দিশেহারা। তাঁর আফসোস, ছেলেটা দেনার চাপে ছোটভাইকে নিয়ে গ্রাম ছেড়েছিল। বলেছিল, সেই ঋণ শোধ করে আবার গ্রামের আসবে। কিন্তু সেই আসা আর হলো না, তাকে আসতে হলো লাশ হয়ে।

গত ৫ আগস্ট আবুল কালামের ছেলে সোহাগ মিয়া (২৪) ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পরদিন গ্রামের বাড়িতে এনে তাঁর লাশ দাফন হয়। আবুল কালামের বাড়ি জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালি ইউনিয়নের গোলামীপুর গ্রামে। এক সময় এলাকায় রিকসা চালাতেন। এখন বয়স হওয়া ও রোগেশোকে আর কাজ করতে পারেন না। বাড়িতেই থাকেন।

আবুল কালামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে জানা যায়, তাঁর পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে বড়, বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেদের মধ্যে সোহাগ মিয়া দ্বিতীয়। চার বছর আগে সোহাগ সৌদিআরবে যাওয়ার জন্য বায়না ধরে। এরপর জমি, ঘরের গরু আর মহাজনি সুদে ঋণ করে প্রায় চার লাখ টাকা জোগার করে দেন দালালকে। কিন্তু সব টাকা খোয়া যায়। এরপর সুদের টাকার চাপে ছোটভাই শুভ মিয়াকে (২০) নিয়ে গ্রাম ছাড়েন সোহাগ। ঢাকায় গিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ নেন দুই ভাই। থাকতেন বাড্ডার হোসেন মার্কেট এলাকায়। যা আয় করতেন মাসে মাসে সেখান থেকে কিছু টাকা পাঠাতেন বাড়িতে। সেই টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করছিলেন বাবা। হৃদরোগে আক্রান্ত আবুল কালামের চিকিৎসার খরচও দিতেন সোহাগ।
৫ আগস্ট সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে কারখানায় যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হন দুই ভাই। ঘটনাস্থলেই সোহাগ মিয়া মারা যান। শুভ মিয়া এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ৬ আগস্ট সোহাগের লাশ এলাকায় নিয়ে দাফন করা হয়। শুভ মিয়ার চিকিৎসা নিয়েও চিন্তায় পরিবার।

আবুল কালাম বলেন, একটা ভাঙা ঘরে থাকি। বেড়া নাই, টিন নাই। মেঘ আইলে (বৃষ্টি হলে) পানি পড়ে। একবেলা খাইলে, দুই বেলা উপাস যায়। ছেলেটা মাসে মাসে কিছু টেখা দিত। এই টেকা দিয়া চলতাম। অখন ত হে নাই, আমরারে কে দেখব।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সোহাগের পরিবার খুবই দরিদ্র। যে গাড়িটা লাশ নিয়ে এসেছিল সেটার ভাড়ার টাকাও গ্রামের লোকজন দিয়েছেন।
গ্রামের বাসিন্দা আইনজীবী মো. শাহিনুর রহমান বলেন, সোহাগ মিয়া মারা যাওয়ায় এই দরিদ্র পরিবারটি আরও অসহায় হয়ে পড়ল। এখন আহত শুভ মিয়ার চিকিৎসা ও পরিবারটি কিভাবে চলবে এটি চিন্তার বিষয়। তাদের পাশে সরকারের দাঁড়ানো উচিত।



নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে মাঠ গোছাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে মাঠ গোছাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা